32.2 C
Bangladesh
Friday, August 14, 2026
Sports

রাসেলের ‘সাইক্লোনে’ লণ্ডভণ্ড ব্যাঙ্গালুরু

রাসেলের ‘সাইক্লোনে’ লণ্ডভণ্ড ব্যাঙ্গালুরু

রাসেলের ‘সাইক্লোনে’ লণ্ডভণ্ড ব্যাঙ্গালুরু

প্রথম ইনিংসে ঝড় তোলেন বিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স। জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্রিস লিন, নিতিশ রানার ব্যাট থেকেও বের হয় ঝড়ো ইনিংস। আর এ চারজনের ইনিংস যদি হয় ‘ঝড়’, তবে নিশ্চিতভাবেই আন্দ্রে রাসেলের ইনিংস যেনো প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়। যার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়েছে পুরো ব্যাঙ্গালুরু।

স্বাগতিক রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর ২০৫ রানের জবাবে রাসেল যখন নামলেন ব্যাট করতে, কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৬ বলে ৬৭ রান। ম্যাচের এমন পরিস্থিতিতে যে কেউ এগিয়ে রাখবে বোলিং করা দলকেই। কিন্তু যখন ব্যাটিং দলে থাকেন একজন আন্দ্রে রাসেল, তখন যেনো কোনো সমীকরণই কাজে আসে না।

রাসেলের ‘সাইক্লোনে’ লণ্ডভণ্ড ব্যাঙ্গালুরু
রাসেলের ‘সাইক্লোনে’ লণ্ডভণ্ড ব্যাঙ্গালুরু

যার প্রমাণ মিললো শুক্রবার রাতে ব্যাঙ্গালুরু চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। ২৬ বলে ৬৭ রানের প্রয়োজনে খেলতে নেমে ৫ বল আগেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছেন রাসেল। নিজের প্রথম ৪ বলে মাত্র ১ রান করেছিলেন তিনি। এরপর খেলেন আরও ৯টি বল।

সে ৯ বলে রাসেলের ব্যাট থেকে আসা শটগুলো যথাক্রমে ৬, ৬, ৬, ১, ৬, ৬, ৬, ৪, ৬! অর্থাৎ প্রথম ৪ বলে ১ রান করা রাসেল পরের ৯ বলে হাঁকান ৭টি ছক্কা এবং ১টি চার, করেন ৪৭ রান। সবমিলিয়ে ১৩ বলে ৪৮ রানের ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাঙ্গালুরুকে উড়িয়ে দেন রাসেল।

অধিনায়ক কোহলি ও এবি ডি ভিলিয়ার্সের জোড়া ফিফটিতে ব্যাঙ্গালুরু দাঁড় করায় ৩ উইকেটে ২০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ। জবাবে ক্রিস লিন-নিতিশ রানার দারুণ শুরুর পর শেষে এসে রাসেলের ঘূর্ণিঝড়ে ৫ উইকেট ও ৫ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কলকাতা নাইট রাইডার্স।

এ জয়ে চার ম্যাচ শেষে তিন জয়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, চেন্নাই সুপার কিংস ও কিংস এলেভেন পাঞ্জাবের সমান্তরালে বসেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। অন্যদিকে টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে এখনো টেবিলের তলানিতে পড়ে রয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু।

রান তাড়া করতে নেমে ২৮ রানে ভাঙে কলকাতার উদ্বোধনী জুটি। দ্বিতীয় উইকেটে ৬৫ রান যোগ করেন রবিন উথাপ্পা এবং ক্রিস লিন। ৬ চারে ২৫ বলে ৩৩ রান করে আউট হন উথাপ্পা। লিনের ব্যাট থেকে আসে ৩১ বলে ৪৩ রানের ইনিংস।

অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক ১৫ বলে ১৯ রান করে সঙ্গ দেন ২৩ বলে ৩৭ রান করা রানাকে। শেষদিকে এসে ঝড় তোলেন রাসেল। মার্কস স্টয়নিসের করা ১৮তম ওভারে পরপর তিন ছয়ে নেন ২৩ রান। ১৯তম ওভার করতে আসেন টিম সাউদি। দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়ে ৪ ছয় ও ১ চারে মোট ২৯ রান নিয়ে ম্যাচের স্কোর সমান করেন রাসেল। শেষ ওভারের প্রথম বলে জয় নিশ্চিত হয় কলকাতার।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা খেলেছে কোহলির দল। পার্থিব প্যাটেলের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে ৪৭ বলে ৬৪ রানের জুটি গড়েন কোহলি। ২৪ বলে ২৫ করে পার্থিব আউট হলে ভাঙে এই জুটি।

তবে দ্বিতীয় উইকেটে রীতিমত তাণ্ডব চালান কোহলি আর এবি ডি ভিলিয়ার্স। এই যুগল গড়েন ১০৮ রানের বড় জুটি। সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন কোহলি। ৪৯ বলে ৯ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় ৮৪ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরতি ক্যাচে বোকা বানান কুলদ্বীপ যাদব।

এরপর ৩২ বলে ৬৩ রানের টর্নোডো ইনিংস খেলে নারিনের শিকার হন ডি ভিলিয়ার্স। যে ইনিংসটিতে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ছিল ৪টি ছক্কার মার।

ডি ভিলিয়ার্স আউট হবার পর পরের দায়িত্বটুকু সেরেছেন মার্কাস স্টয়নিস। ১৩ বলে হার না মানা ২৮ রান করে ব্যাঙ্গালুরুকে দুইশ পার করে দেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটসম্যান।

Related posts

আল্লেগ্রি – মাদ্রিদে অবশ্যই গোল করতে হবে

Lutfur Mamun

জিম্বাবুয়েকে কী এমন হতশ্রী ব্যাটিং দিয়ে হারানো সম্ভব ||

Lutfur Mamun

বার্সার রক্ষা মেসির জোড়া গোলে

Lutfur Mamun

মেহেদী হাসান মিরাজ প্রথম টি টোয়েন্টির দল থেকে একটিই পরিবর্তন এনেছিল ||

Lutfur Mamun

বড় হারই সঙ্গী হলো ঘরের মাঠের চিটাগংয়ের

Lutfur Mamun

প্রিমিয়ার লিগ চট্টগ্রাম আবাহনীর রুখে দিল রহমতগঞ্জ

Lutfur Mamun