Thursday, September 3, 2026
Bangladesh

আইনমন্ত্রীর জামায়াতের বিচার নিয়ে ফের আশ্বাস

আইনমন্ত্রীর জামায়াতের বিচার নিয়ে ফের আশ্বাস

আইনমন্ত্রীর জামায়াতের বিচার নিয়ে ফের আশ্বাস

একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে সংগঠন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচার শুরুর জন্য ফের আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

টানা দ্বিতীয় মেয়াদে আইনমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার দুই দিন পর বুধবার সচিবালয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিভাগ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধাপরাধে অংশ নেওয়া কয়েকজন জামায়াত নেতার বিচার হলেও দল হিসেবে জামায়াতের বিচার আটকে আছে আইনি জটিলতার কারণে।

আওয়ামী লীগের গত সরকারের মেয়াদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক এম হান্নান খান গত ১ জানুয়ারি এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “বিচার কেন হচ্ছে না, এটা আমর প্রশ্ন। এটা প্রসিকউশনকে জিজ্ঞেস করেন আপনারা। এক সময়ে এটা এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দেখা দিয়েছিল, তার জন্য এই মামলাটির উপর আমাদের চাপ ছিল। আমারা তাড়াহুড়ো করে তদন্ত করে দিয়েছি ২০১৪ সালের ২৭ মার্চ। প্রায় পাঁচ বছর হতে চললো।”

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইন সংশোধনের অগ্রগতি জানতে চাইলে আনিসুল হক বুধবার বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধন তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ লেজিসলেটিভ ভাষা আবারও একটু ইয়ে করার জন্য বলেছে, আইনটি আমাদের কাছে আছে।

“আমরা চেষ্টা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে আবারও আইনটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়ে দেব, যাতে এটা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।”

বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের ‘নেপথ্যে’ জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটির কমিশন গঠন করা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার আন্দোলন যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে, তখন ১১ দফাসহ বিভিন্ন দাবির বিরোধিতা করে জামায়াত। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করতে রাজাকার, আলবদর, আলশামস্ নামে বিভিন্ন দল গঠন করে জামায়াত ও এর তখনকার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংঘ।

সে সময় তারা সারা দেশে ব্যাপক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাটের মত যুদ্ধাপরাধ ঘটায়। সেই অপরাধে সর্বোচ্চ আদালতে এ পর্যন্ত জামায়াতের সাত শীর্ষ নেতার সাজা হয়েছে, তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

একাত্তরের ভূমিকার জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ‘ক্রিমিনাল দল’ আখ্যায়িত করে আদালতের একটি রায়ে বলা হয়, দেশের কোনো সংস্থার শীর্ষ পদে স্বাধীনতাবিরোধীদের থাকা উচিত নয়।

২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার আদেশ হলে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে শাহবাগে গড়ে ওঠে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলন। তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে জামায়াতসহ যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত দলগুলোর রাজনীতি নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও ছিল।

পরে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আপিলের সমান সুযোগ এবং ব্যক্তির পাশাপাশি দল বা সংগঠনের বিচারের সুযোগ রেখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের বিল সংসদে পাস হয়। এরপর যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং প্রসিকিউশনের তদন্ত দল তাদের তদন্তও শেষ করে।

কিন্তু কোনো দল বা সংগঠন যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত হলে তার শাস্তি কী হবে তা আইনে না থাকার বিষয়টি উঠে এলে সাজা নির্দিষ্ট করতে আবার আইন সংশোধনের কথা ওঠে। সরকার এরপর আইনের ওই সংশোধনী সংসদে তোলার বিষয়ে কয়েক দফা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা আর হয়নি।

এদিকে এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে হাই কোর্ট ২০১৩ সালের ১ অগাস্ট জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করলে দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। তার পাঁচ বছর পর গত অক্টোবরে নিবন্ধন বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন।

Related posts

এস এস সি রেজাল্ট ২০১৯ দেখার নিয়ম (SSC Result 2019)

Lutfur Mamun

মেয়র আতিকুল ইসলাম শপথ নিলেন

Lutfur Mamun

অভিনেতা টেলিসামাদ আর নেই

Lutfur Mamun

করোনাভাইরাস আপডেট ও সর্বশেষ খবর || বুধবার, ২৪ মার্চ ২০২১,১০ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ ||

Lutfur Mamun

করোনাভাইরাস আপডেট ও সর্বশেষ খবর || সোমবার, ১৯ জুলাই ২০২১,৪ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ ||

Lutfur Mamun

আজকের পত্রিকা শনিবার , ১১ এপ্রিল ২০২০, ২৮ চৈত্র ১৪২৬ |Today’s magazine Saturday, April 11, 2020 |

Lutfur Mamun